যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কবিরোধী আইনি লড়াই ও ট্রাম্পের ‘১৯৩০’র মন্দার আশঙ্কা

প্রকাশিত: ৬:৩১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কবিরোধী আইনি লড়াই ও ট্রাম্পের ‘১৯৩০’র মন্দার আশঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে শুল্কনীতির প্রভাব নিয়ে বিতর্ক ও আইনি লড়াই তীব্র আকার ধারণ করেছে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশালে একটি পোস্টে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আদালতকে কঠোর সমালোচনা করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, যদি আদালত তাঁর শুল্কনীতির বিরুদ্ধে রায় দেন বা তাঁর ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আবারো ১৯২৯ সালের মতো ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দার সম্মুখীন হবে। ট্রাম্পের দাবি, তার শুল্কনীতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং শেয়ারবাজারে ধারাবাহিক ‘রেকর্ড উত্থান’ ঘটছে। তিনি আরও বলেন, প্রতি দিন অর্থনীতিতে শত শত কোটি ডলার প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আদালতকে ‘চরম বামপন্থী’ আখ্যা দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন, বললেন যদি আদালত তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যায়, তবে আমেরিকার অর্থনীতি তীব্র বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে যা থেকে বের হওয়া প্রায় অসম্ভব হবে।

গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত রায় দিয়েছিল, বিদেশি পণ্যে ব্যাপক শুল্ক আরোপে ট্রাম্প তার আইনি ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন করেছেন। এরপর গত সপ্তাহে ফেডারেল সার্কিট আপিল আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের করা আপিল শুনানি হয়। ১১ জন বিচারকের বেঞ্চের বেশ কয়েকজনই সংশয় প্রকাশ করেন যে বিদ্যমান আইন ট্রাম্পকে এতটা আক্রমণাত্মক শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় কি না। আপিল আদালত এখনও এ বিষয়ে রায় দেয়নি, এবং ধারণা করা হচ্ছে, এই মামলাটি শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে গড়াবে। ট্রাম্প আরও বলেন, “যদি আদালত আমেরিকার সমৃদ্ধি, শক্তি ও ক্ষমতার বিরুদ্ধে রায় দিতে চায়, তবে তা অনেক আগেই মামলার শুরুতেই দিতে পারত।” এই বক্তব্যে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন কারণ যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বর্তমান প্রেসিডেন্টের পক্ষে সরাসরি দেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করা বিরল ঘটনা।
অর্থনীতিবিদরা দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন। তাদের মতে, অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে ব্যাহত করে এবং আমেরিকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি এবং আদালতের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে, যেখানে ভবিষ্যতে এই আইনি দ্বন্দ্বের প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ