জেনে নিন সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার কিছু উপকারিতা

প্রকাশিত: ৫:৪৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০২৫

জেনে নিন সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার কিছু উপকারিতা

ডেস্ক রিপোর্ট:ভিটামিন-ডি, ওমেগা-৩ ও স্বাস্থকর চর্বিসহ পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্ব আমরা সবাই জানি। এসবই থাকে সামুদ্রিক মাছে। আর বঙ্গোপসাগরের তীরে আমাদের দেশ হওয়ায় সরাসরি সামুদ্রিক মাছ পাওয়া তুলনামূলক সহজ। এছাড়া নদী থেকেও এমন বেশ কিছু মাছ পাওয়া যায়। চট্টগ্রামের ফিশারিঘাট, কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের বাজার, খুলনার পাইকারি আড়ত কিংবা ঢাকার কারওয়ান বাজারে আজকাল নানা ধরনের সামুদ্রিক মাছ ও শেলফিশ পাওয়া যায়। আবার আমাদের জাতীয় মাছ ইলিশও কিন্তু আসলে সামুদ্রিক মাছ। কিন্তু এগুলো শুধু মুখরোচকই নয় – শরীরের জন্যও অসাধারণ উপকারী। আসুন জেনে নেই কেন সামুদ্রিক মাছ খাওয়া উচিত সবার-

১. প্রোটিনের ভাণ্ডার

সামুদ্রিক মাছ হলো প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস। প্রোটিন আমাদের শরীরের কোষ তৈরি, মেরামত আর পেশি শক্ত রাখতে দারুণ কাজ করে। মজার ব্যাপার হলো, মাছের প্রোটিন খুব সহজেই হজম হয়, তাই ছোট থেকে বড় – সবাই নিশ্চিন্তে খেতে পারে। এই প্রোটিনে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড ত্বক, চুল, পেশি আর ভেতরের অঙ্গগুলো ঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।

২. ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি পূরণ

যারা বেশিরভাগ সময় ঘরের ভেতরে থাকেন, তারা সূর্যের আলো থেকে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি পান না। ফলে হাড় দুর্বল হয়ে যায়। সামুদ্রিক মাছ এই ঘাটতি মেটানোর প্রাকৃতিক উপায়। কারণ মাছের ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে, যা শুধু হাড়ই নয় – মন ও শরীর দুটোই ভালো রাখে।

৩. থাইরয়েডের জন্য আয়োডিন

সামুদ্রিক মাছ, বিশেষ করে শৈবাল বা অন্যান্য সামুদ্রিক খাবার, আয়োডিনে ভরপুর। আয়োডিন থাইরয়েড হরমোন ঠিক রাখে, যা আমাদের শরীরের বিপাকীয় প্রক্রিয়া (মেটাবলিজম) নিয়ন্ত্রণ করে। আয়োডিনের অভাবে ক্লান্তি, ওজন বাড়া বা মনমেজাজ খারাপ হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৪. হৃদযন্ত্র ও রক্তচাপের যত্নে

মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তনালী সুস্থ রাখে, রক্ত জমাট বাঁধা কমায় আর হৃদরোগের ঝুঁকি থেকেও রক্ষা করে। এটা রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতেও সাহায্য করে। আরেকটা বাড়তি সুবিধা হলো – ওমেগা-৩ ‘ভালো কোলেস্টেরল’ বা এইচডিএল বাড়ায় এবং ‘খারাপ কোলেস্টেরল’ বা এলডিএল কমায়।

৫. চোখের জন্য ভিটামিন

ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ চোখের রেটিনা আর স্নায়ুকে রক্ষা করে। ড্রাই আই সিন্ড্রোম কমায়, এমনকি বয়সজনিত চোখের রোগ এএমডি থেকেও চোখকে বাঁচাতে পারে। মাছের ভিটামিন এ ও ডি দৃষ্টিশক্তি ও চোখের কার্যক্ষমতা বাড়াতে দারুণ কার্যকর।

৬. ওজন নিয়ন্ত্রণে

ফাইবার ও পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় সামুদ্রিক মাছ খেলে অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে, ক্ষুধা কম লাগে, আর অযথা নাস্তা খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। ডায়েটে থাকলে বা ওজন কমাতে চাইলে মাছ হতে পারে আপনার সেরা সঙ্গী।

৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

ভিটামিন, মিনারেল, ওমেগা-৩, সব মিলিয়ে সামুদ্রিক মাছ শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে মজবুত করে। মাছের সেলেনিয়াম নামক উপাদান কোষকে ফ্রি র‌্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে, যা দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

৮. ত্বকের সৌন্দর্যে

ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বক ময়েশ্চারাইজড রাখে, সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করে আর ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। নিয়মিত মাছ খেলে ব্রণ, দাগ বা বয়সজনিত ত্বকের সমস্যা অনেকটাই কমে যায়।

৯. হাড়ের যত্নে

মাছে থাকা ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁত মজবুত করে। নিয়মিত খেলে অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি কমে, বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য এটা একেবারে অপরিহার্য।
এসব কারণে সপ্তাহে অন্তত ২-৩ দিন খাদ্যতালিকায় এই মাছ রাখুন। বিশেষ করে যারা লিভারের সমস্যায় ভুগছেন, ওজন কমাতে চাচ্ছেন, তাদের জন্য এটি খুব কার্যকরী। পোমফ্রেট, রূপচাঁদা, কোরাল, চিংড়ি, লবস্টার, লইট্টা ও বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছের শুটকি বাংলাদেশে সহজেই পাওয়া যায়। সামুদ্রিক মাছ শুধু স্বাদ নয়, এটি আপনার শরীরের জন্য এক ধরনের ‘সুপারফুড’। তাই বাজারে গেলে শুধু ইলিশ বা রুই নয়, বরং টুনা, কোরাল, লোবস্টার, ঝিনুকের মতো সামুদ্রিক খাবারকেও তালিকায় রাখুন।