মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে নাম মুছে ফেলার সিদ্ধান্তে খুশি সিরিয়া

প্রকাশিত: ৫:৫৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০২৫

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে নাম মুছে ফেলার সিদ্ধান্তে খুশি সিরিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে সিরিয়ার নাম সরানোর সিদ্ধান্তে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ সিরিয়ার জনগণের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে।শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে দামেস্ক জানায়, ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি মন্ত্রণালয় সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিয়াকে জানায়, দেশটির ওপর থেকে সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মূলত ক্ষমতার পরিবর্তনের পর নতুন সরকার ও মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে আলোচনার ফলস্বরূপ।সিরিয়ার সাবেক মস্কোপন্থি প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের শাসনামলে দেশটির ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে গত ডিসেম্বরে হায়াত তাহরির আল শামস (এইচটিএস) জোটের আকস্মিক অভিযানে বাশার সরকারের পতন ঘটে এবং তিনি রাশিয়ায় পালিয়ে যান। এরপর ক্ষমতায় আসেন এইচটিএস নেতা আহমেদ আল শারা। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা চলছিল। সোমবার ওয়াশিংটন দামেস্ককে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানায়।এই ইতিবাচক পদক্ষেপের জন্য সিরিয়া সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে সাধারণ জনগণের জীবনমান উন্নত হবে, মানবিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।প্রসঙ্গত, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল সিরিয়া সফর করে। এতে সিনেটর জিয়ান্নে শাহীন, কংগ্রেস সদস্য জোয়ে উইলসন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিরিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত টম বারাক উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সামাজিক কল্যাণমন্ত্রী ও শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই সফরের ফলেই মার্কিন ট্রেজারি মন্ত্রণালয় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।এ সিদ্ধান্ত সিরিয়ার অর্থনীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির সরকার মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সহযোগিতা দীর্ঘদিনের সংকট মোকাবিলায় নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ